Description
উপন্যাসটির আখ্যান অতিপ্রাকৃত ছায়াচ্ছন্ন দূর অতীত স্মৃতির ভেতর অঙ্কুরিত। ইতিহাসের বাস্তবতা পলাশির যুদ্ধ, সিপাহি বিপ্লব, নীলকর, ঔপনিবেশিকবিরােধী সংগ্রাম, একাত্তরের যুদ্ধ, যুদ্ধোত্তর সাম্যবাদী তৎপরতা, অতীন্দ্রিয় কুহকী-মায়া শিল্প-কৌশলে বর্ণিত। ইতিহাসের পুনর্গঠন নয়, বরং ভগ্নস্তুপের দু’একটি প্রস্তরখণ্ড দিয়ে শিল্পের অভিনব প্রকৌশলে গড়া হয়েছে আখ্যানসৌধ। বাংলার প্রথম শহিদ তরুণ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা, পলাশির অভিশপ্ত প্রান্তর ইতিহাসের ভগ্নদূত হয়ে পুনরুত্থিত হয়েছে। একদল ভয়ার্ত পলাশির যুদ্ধপলাতক নবাবের প্রজা, এবং সােয়া দুইশত বৎসর পর উত্তর-প্রজন্মের প্রজা, একাত্তরের পলাতকদের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটেছে অতীন্দ্রিয় জগতে পরিভ্রমণের ভেতর। সুনির্দিষ্ট একক কোনাে ধর্মীয় সম্প্রদায় বা জাতিসত্তা উপন্যাসটির আখ্যানসত্য নয়; বরং হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বহুমাত্রিক জাতি আর ধর্মসত্তা নবাব সিরাজের অখন্ড বঙ্গের পাকিস্তানি খণ্ডিত ভগ্নাংশের হাজার বছরের পৌরাণিক জাত্য ভেঙে বহুমাত্রিক জীবন ও সমাজের বিবর্তনের ভিতর দিয়ে বাঙালির নতুন প্রজাতির যে উদ্ভব-সাধন করেছে, তারই ইঙ্গিতবাহী এই আখ্যান। একাত্তরের যুদ্ধবিজয়ে, পলাশির যুদ্ধে পরাজিত বাঙালির প্রতিশােধ-পুনরুত্থান।
ইতিহাস যদি একাত্তরকে অনিবার্য না করত তবে এই নতুন বাঙালির প্রজাতিউদ্ভব ঘটত না। বাঙালির পুনরুত্থান এবং প্রত্যাবর্তনভূমি যে তার পঞ্চপিতা স্বাধীন পিতৃভূমি, তা জন্ম ও মৃত্যু, জ্যোতি আর অন্ধকারের মতােই চিরন্তন সত্য। তাই এই আখ্যানকে আশ্রয় নিতে হয়েছে বহুদূরবর্তী পৌরাণিক রহস্যময় এক অস্পষ্ট জগতে, অর্থাৎ প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য এবং বাইবেলীয় যুগের ভাবজগতে। শিহরণ জাগানাে অতিপ্রাকৃত বর্ণনাকৌশল প্রয়ােগের প্রয়ােজনেই আখ্যানে প্রচলিত শিল্পমাধ্যম অগ্রাহ্য হয়েছে।
পলাশির যুদ্ধ-পলাতকদের সঙ্গে একই রক্তধারার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একাত্তরের যুদ্ধপলাতকদের সােয়া দুই শতাব্দী পেরিয়ে পুনর্মিলন ঘটলেও নবাব সিরাজের অখণ্ড বঙ্গের ভাঙন-বিচ্ছিন্নতার আদি অভিশাপ মহাসত্য হয়ে দাড়ায়। তবু দেশ খণ্ডায়ন এবং বংশ-ধর্ম-রক্তধারার বিচ্ছিন্নতার ভেতর পুনর্মিলনের পরমানন্দও ঐশ্বর্যমণ্ডিত হতে চায় এই আখ্যান-পুরাণে।।
Reviews
There are no reviews yet.